কমান্ড

কমান্ড শুনে হয়ত বুঝতেই পারছেন যে এর অর্থ আপনি শেলকে কিছু করতে নির্দেশ দেবেন। স্বাভাবিকভাবেই শেল আমাদের ভাষা বুঝবে না, তাকে বলতে হবে তার মত করে। আসুন কয়েকটা কমান্ড ট্রাই করুন:

me@howtocode-pc:~$ date
Wed Aug 27 12:15:21 BDT 2014
me@howtocode-pc:~$ cal
    August 2014       
Su Mo Tu We Th Fr Sa  
                1  2  
 3  4  5  6  7  8  9  
10 11 12 13 14 15 16  
17 18 19 20 21 22 23  
24 25 26 27 28 29 30  
31

আমরা দুটো খুব সহজ কমান্ড দিয়েছি। আপনি 'date' লিখে এন্টার চাপুন। দেখবেন পরের লাইনে তারিখ ও সময় জানিয়ে দেবে। এবং তারপর আবার প্রম্পটি ফেরত আসবে। আপনি তারপর 'cal' কমান্ডটি দিন, দেখবেন একটি ক্যালেন্ডার আসবে আজকের দিন হাইলাইট করে। একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে রাখি, আপনি আপ এ্যারো কী চেপে চেপে আগে দেয়া কমান্ডের হিস্ট্রি দেখতে পারবেন।

এইতো হল কমান্ড দেয়া শেখা। আসুন কমান্ডের কিছু নাড়িনক্ষত্রের খবর জেনে নিই।

কমান্ডের রকমফের

আমরা যে কমান্ডগুলো ব্যবহার করি, সেগুলো আসলে কী? কমান্ডগুলোকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়:

  • Program: কোনো প্রোগ্রাম(লিনাক্সে অধিকাংশ প্রোগ্রামই বেশকিছু কমান্ডলাইন ফাংশনালিটি দেয়।) আপনার কমান্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে তার নামটি কমান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনি মুভি দেখার জন্য ভিএলসি প্লেয়ার ইন্সটল করলেন। টার্মিনালে vlc লিখে এন্টার চাপুন দেখবেন ভিএলসি ওপেন হবে। আমরা উপরে যে date ও cal কমান্ডদুটি ব্যবহার করেছি তাও একটি প্রোগ্রাম।

  • Shell Builtin: শেল প্রোগ্রামগুলোর কিছু বিল্টইন কমান্ড থাকে। এগুলোর আলাদাভাবে অস্তিত্ব থাকে না। এগুলোও কমান্ড। যেমন: type।

  • Shell Function: কোনো কাজের জন্য কিছু কমান্ডকে বিশেষভাবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু যদি এমন হয় যে বারবার ওই কমান্ডগুলো ব্যবহার করতে হচ্ছে তখন সেগুলোকে একসাথে একটি ফাংশনে রূপ দেয়া হয় কম পরিশ্রমে কাজ করার জন্য। ফাংশনটির নাম দিয়ে ফাংশনটিকে ব্যবহার করা যায় এবং এটিও কমান্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। ফাংশন নিয়ে এই বইতে পরে বিস্তারিত বলা হবে।

  • alias: এলিয়াসকে সহজভাষায় ডাকনাম বলা যায়। একটা কমান্ডের বিশেষ ব্যবহারিক রূপের ডাকনাম দেয়া যেতে পারে নিজের সুবিধার্থে। এই ডাকনামগুলোও কমান্ড। মনে করুন আপনি ls -lAh কমান্ডটি ব্যবহার করেন। বারবার পুরোটুকু লেখা বিরক্তিকর। তাই alias ll='ls -lAh' কমান্ড দিয়ে আপনি ll নামে একটি এলিয়াস তৈরী করে নিতে পারেন কমান্ডটির। তাহলে আর বারবার পুরোটুকু না লিখে ll লিখলেও হবে। এই ll ও কমান্ড হিসেবে বিবেচিত হবে।

কমান্ডের অংশসমূহ

এই কমান্ডটি দেখুন:

এটাকে কাঁটাছেঁড়া করা যাক:

  • cp: এটি কমান্ডের নাম, যে নামে কমান্ডটিকে ডাকা হয়। এই কমান্ডটি ফাইল ও ফোল্ডার কপি করতে ব্যবহৃত হয়।

  • -rv: '-' বা '--' এই চিহ্ন দিয়ে কমান্ডের অপশনগুলো একটিভেট করা হয়। এখানে আসলে দুটো অপশন, -r এবং -v। দুটোকে একসাথে -rv লেখা হয়েছে। কমান্ডগুলো স্বাভাবিকভাবে যে কাজ করে তারচেয়েও বেশি কিছু করতে বলার জন্যই অপশন দেয়া। এখান -r দিয়ে নির্দেশ করা হচ্ছে ওই ফোল্ডারের ভিতরের সবকিছুসুদ্ধই(recursive) যেন কপি করা হয় এবং -v দিয়ে বলা হচ্ছে কমান্ড চলাকালীন সময় বিস্তারিত(verbose) কি হচ্ছে যেন জানানো হয়।

  • /var/cache/apt/archives/ ~/backup/: এই অংশটা আর্গুমেন্ট। যখন কপি করতে বলছি, তখন নিশ্চয়ই বলা উচিৎ কি কপি করবে এবং কোথায় কপি করবে। এইখানে স্পেস দিয়ে আলাদা করা দুটি আর্গুমেন্ট আছে। প্রথমটি কি কপি করতে হবে ও দ্বিতীয়টি কোথায় কপি করতে হবে তা বলে দেয়।

তাহলে পুরো কমান্ডটিতে আমরা কি বলতে চাচ্ছি? আমরা বলতে চাচ্ছি যে 'root' ফোল্ডারের ভেতর(কোনো ফাইল বা ডিরেক্টরির পাথের শুরুতে '/' থাকলে সেটাকে রুট বোঝায়) যে 'var' ফোল্ডার, তারমধ্যে 'apt' এবং তারমধ্যে 'archives' নামের যে ফোল্ডারটি তাকে তার ভিতরে রাখা সবকিছু সহ(recursively) হোম ফোল্ডারের মধ্যে 'backup' ফোল্ডারে কপি করে রাখতে হবে। এবং এই কাজের বিস্তারিত জানাতে হবে।

কমান্ড চেনা, কমান্ড জানা

আমরা জেনেছি ৪ রকম কমান্ডের কথা, আর জেনেছি সেই কমান্ড কত দুর্বোধ্যভাবে ব্যবহার করা যায়। একটা প্রশ্ন আসতে পারে, বিপুল পরিমান কমান্ডের মধ্যে যদি নতুন কোনো কমান্ড চোখে পড়ে, তো কিভাবে জানবো তার কথা? এবার দেখা যাক কমান্ড চেনা ও জানার উপায়।

কমান্ড চেনা

type

type কমান্ডটির মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন কোনো কমান্ড উপরোক্ত চার ধরনের কোনটি তা জানা যাবে। এজন্য এর আর্গুমেন্ট হিসেবে ওই কমান্ডটি দিতে হবে। অর্থাৎ cp কমান্ডটি কোনধরনের তা জানতে আপনার লিখতে হবে type cp। কয়েকটা উদাহরণ দেখা যাক:

এখানে cp এর জন্য তার পাথ দেখাচ্ছে অর্থাৎ এটি এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম। অন্যদিকে type শেল বিল্টইন এবং ll এলিয়াসড করা আছে ls -alF। অর্থাৎ ll ls -alF এর ডাকনাম।

which

কোনো কমান্ড যদি এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম হয় তবে তার লোকেশন which দিয়ে জানা যায়। যেমন:

অর্থাৎ ls প্রোগ্রামটি রুট ফোল্ডারের মধ্যে bin ফোল্ডারে আছে।

কমান্ড জানা

help

bash এর একটি ফিচার হল এতে বিল্টইন কমান্ডগুলোর বিস্তারিত জানা যায় help কমান্ড দিয়ে। যেমন:

--help

অনেক এক্সিকিউটেবল প্রোগ্রাম --help অপশনটি সাপোর্ট করে যা দিয়ে ওই কমান্ডটি ব্যবহারের নিয়মকানুন জানা যায়। যেমন:

man

man manual এর সংক্ষিপ্ত রূপ। অধিকাংশ কমান্ডের বিস্তারিত খুঁটিনাটি জানতে এই কমান্ডটি অতুলনীয়। এমনকি সিস্টেমের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারও এখানে আলোচনা করা থাকে। কোনো কমান্ডের ম্যনপেজ দেখতে হলে কমান্ডের নামটি এই কমান্ডের আর্গুমেন্ট হিসেবে দিতে হবে। যেমন cp এর ম্যানপেজের জন্য man cp। এই কমান্ড দেয়ার পর ম্যানপেজটি less নামের একটি কমান্ডলাইন টেক্সটভিউয়ারে খুলবে, আপনি এ্যারো কী দিয়ে স্ক্রল করে পড়তে পারবেন এবং q চাপলে প্রম্পট ফেরত আসবে।

Last updated